Header Ads Widget

Ticker

6/recent/ticker-posts

ইসলামে হ্যাপি নিউয়ার পালন করলে কি হয়


আসসালামু আলাইকুম,

আলহামদুলিল্লাহ, আজ এমন একটি পোস্ট করার সুযোগ পেয়েছি  যা আগে কখনো মাথায় আসেনি বাসার চার পাশ শুধু বক্সের ড্রিম ড্রিম আওয়াজ আওয়াজটা কেন সেটা অবশ্যই আপনার অজনা নয় জানেন তো কালকে ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিন আর এই দিনে আনন্দ উল্লাস উৎসাস করার জন্য ধরনের বাদ্যযন্ত্র নিয়ে রং তামাশা করতেছে বাংলার মানুষ সরি ইসলামিক দেশের মুসলিম মানুষ আসলে নিজেদেরকে মুসলিম বলতে আজকে ঘৃনা বোধহয় যে দেশের 90 ভাগ মানুষ মুসলিম সেদেশে কেন নববর্ষ পালিত হয় সেটা আজও আমার অজানা

কেন পালন করা হয়?

ইসলামের শরীয়তে নববর্ষ পালিত করা জায়েজ না নাজায়েজ ?

চলুন দেখা যাক ইসলাম আমাদের কি বলে,

দারান একটু আমি যখন খুব ছোট ছিলাম তখন একবার নববর্ষের জন্য বাইরে ঘুরতে গিয়ে ছিলাম গায়ে রং মেখেছিলাম  এবং নববর্ষের অনেক অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম  অনেক মজা করেছিলাম কিনতু যখন  বাড়ি ফিরলাম তখন আমাকে অনেক বকা খাইতে হয়েছিল এবং মারও খেতে হয়েছিল এরপর থেকে শপথ নিয়েছিলাম আর কখনো কোন নববর্ষ পালন করবো  না   তাখন তো জানতাম না যে, ইসলাম নববর্ষ  সমর্থন করে না গ্রামে লোকজন বলতো, নববর্ষ যে পালন করে সেই বিধর্মী

যাই হোক মূল প্রসঙ্গে ফেরা যাক-

নববর্ষ আরবি হোক বা বাংলা হোক, হোক ইংরেজি বা হোক ফার্সি  তা পালন করা বৈধ নয়

হে ঈমানদারগণ! তোমাদের পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছিল তাদের মধ্যে যারা তোমাদের দ্বীনকে হাসি- তামাসা খেলার বস্তু হিসাবে গ্রহণ করে তাদেরকে এবং কাফিরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। আর আল্লাহকে ভয় কর যদি তোমরা মুমিন হও।
[
সূরা আল-মায়িদাহ আয়াত নাম্বার:- ৫৭]

আল্লাহর রসুল () বলেছেন,

যে কোন জাতির অনুকরণ (সাদৃশ্য অবলম্বন) করলো সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত

[সুনানে আবু দাউদঃ ৪০৩১]আলবানী () একে সহীহ বলেছেন

তাই এটি বৈধ নয় কাউকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানানো। এতে অবিশ্বাসীদের সাদৃশ্য অবলম্বন বা অনুকরণ করা হয়। কেননা এটি নববর্ষ পালন করার মতই। তাছাড়া মুসলিমদের অনর্থক কাজ থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে

রসুলল্লাহ () বলেছেন,

দ্বীনের সৌন্দর্য হলো অনর্থক বিষয় পরিহার করা।[ইবনে মাজাহ.]

তাই, মুসলিমদের উচিৎ নববর্ষ বা হ্যাপি নিউ ইয়ার পালন বা কেন্দ্রিক অনুষ্ঠান এর শুভেচ্ছা জানানো বন্ধ করা। এটি কাফিরদের(অমুসলিম) অনুকরণের শামিল

নববর্ষ আরবি হোক বা বাংলা হোক, তা হোক ইংরেজি বা হোক ফারসি (ইরানি নওরোজতা পালন করা বৈধ নয়। ব্যাপারে কয়েকজন যুগশ্রেষ্ঠ বিদ্বানের বক্তব্য নিম্নরূপ

. সাহাবীআব্দুল্লাহ বিনআমর (রাদ্বিয়াল্লাহুআনহুমা) বলেছেন,

من مر ببلاد الأعاجم فصنع نيروزهم ومهرجانهم وتشبه بهم حتى يموت وهو كذلك، حشر معهم يوم القيامة.

যে ব্যক্তি (অগ্নিপূজক) পারসিকদের দেশে গমন করে, অতঃপর তাদের নওরোজ (নববর্ষ) মেহেরজান (উৎসবের দিবস) পালন করে, আর তাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করে এবং অবস্থাতেই মারা যায়, তাহলে কেয়ামতের দিন তার হাশর তাদের সাথেই হবে।

[বাইহাক্বী, খণ্ড: ; পৃষ্ঠা: ২৩৪; গৃহীত: ইমাম ইবনুল ক্বাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ), আহকামু আহলিয যিম্মাহ, পৃষ্ঠা: ১২৪৮; ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ ইমাম ইবনুল ক্বাইয়্যিম (রাহিমাহুমাল্লাহ) হাদীসটিকে সাহীহ বলেছেন]

·
. ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ)

বলেছেন,

ليس من السنة أن نحدث عيدا لدخول السنة الهجرية أو نعتاد التهاني ببلوغه.

হিজরী নববর্ষের আগমন উপলক্ষে উৎসব করা কিংবা নববর্ষের দিবস উপলক্ষে পরস্পরকে সম্ভাষণ জানানোর রীতি চালু করা সুন্নাহ বহির্ভূত কর্ম।

[আদ্ব-দ্বিয়াউল লামি‘, পৃষ্ঠা: ৭০২; গৃহীত: Net]

·
. ইমাম সালিহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ)

প্রদত্ত ফাতওয়া

السؤال: إذا قال لي شخص كل عام وانتم بخير فهل هذه الكلمة مشروعة في هذه الأيام؟
الجواب: لا. ليست بمشروعة، ولا يجوز هذا.

প্রশ্ন: “যদি কোনো ব্যক্তি আমাকে বলে, ‘সকল বছরে আপনি ভালো থাকুন’, তাহলে এই (নববর্ষের) দিনগুলোতে এই শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করা কি শরিয়তসম্মত হবে?”

উত্তর: “না, এই শব্দগুচ্ছ শরিয়তসম্মত নয়। এটি অবৈধ, না-জায়েজ।

[আল-ইজাবাতুল মুহিম্মাহ, পৃষ্ঠা: ২৩০; গৃহীত: Net]

·
. সৌদি আরবেরইলমী গবেষণা ফাতাওয়া প্রদানের স্থায়ী কমিটি (সৌদি ফাতাওয়া বোর্ড) প্রদত্ত ফাতওয়া বলা হয়েছে,

لا تجوز التهنئة بالسنة الهجرية الجديدة، لأن الاحتفاء بها غير مشروع.

হিজরী নববর্ষ উপলক্ষে মুবারকবাদ জানানো জায়েজ নয়। কেননা নববর্ষকে অভ্যর্থনা জানানো শরিয়তসম্মত নয়।

[ফাতাওয়া লাজনাহ দাইমাহ; ফাতওয়া নং: ২০৭৯৫; গৃহীত: net]

·
স্মর্তব্য যে, ইসলামী শরিয়ত মুসলিমদের জন্য স্রেফ দুটিঈদ (উৎসব) নির্ধারণ করেছে। তাই এই দুই উৎসব ব্যতীত অন্য কোনো উৎসব পালন করা মুসলিমের জন্য বৈধ নয়

আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন,

রাসূলুল্লাহ মাদীনাহ পৌঁছে দেখতে পান যে, সেখানকার অধিবাসীরা দুইটি দিন (নওরোজ মেহেরজান) খেলাধুলা আনন্দ-উৎসব করে থাকে। তিনি জিজ্ঞেস করেন, ‘এই দুটি দিন কীসের?’ তারা বলে, ‘জাহেলি যুগে আমরা এই দুই দিন খেলাধূলা উৎসব করতাম।রাসূলুল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে এই দুই দিনের পরিবর্তে অন্য দুটি উত্তম দিন দান করেছেন। আর তা হলো, ‘ঈদুল আদ্বহা (কোরবানীরঈদ) এবংঈদুল ফিত্বর (রোজারঈদ)’

[আবূ দাঊদ, হা/১১৩৪; সনদ: সাহীহ]

আল্লাহ তাআলা মুসলিমদেরকে দুটি দিবস নির্ধারণ করে দিয়েছেন, যে দুটি দিবসে তারা উৎসব পালন করবে। রাসূল তো বলতে পারতেন যে, তোমাদের দুই দিন থাক। সাথে এই দুটিও নাও। কিন্তু তিনি তা বলেননি। কারণ ইসলাম এসেছে জাহেলিয়াতকে অপসৃত করতে। ইসলাম চায় জাহেলিয়াতের অপনোদন। ইসলাম আর জাহেলিয়াত কখনো এক হতে পারে না। হাদীস থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়ে গেল যে, মুসলিমদের জীবনে এই দুটি দিবস ছাড়া অন্য কোনো দিবস থাকতে পারে না। সুতরাং নববর্ষ পালন করা ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে অবৈধ

[ইমাম মুহাম্মাদ বিনআলী বিন আদাম আল-আসয়ূবী (হাফিযাহুল্লাহ) শারহু সুনানিন নাসাঈ (যাখীরাতুলউক্ববা ফী শারহিল মুজতাবা); খণ্ড: ১৭; পৃষ্ঠা: ১৫৩-১৫৪; দারু আলি বারূম, মক্কা কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪২৩ হি./২০০৩ খ্রি. (১ম প্রকাশ)]

         =|শেষ কথা|=

সুতরাং উপরের আলোচ্য হাদিসগুলো থেকে আমরা যা জানতে পারলাম তা হলো ইসলামে কখনোই নববর্ষ পালিল করা সমর্থন করে না   যে নববর্ষ পালন করল সে একজন কাফির  (অমুসলিম) এবং ধরনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ সহযোগিতা করার অর্থ হলো সরাসরি আল্লাহ তাআলা তাঁর রসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আদেশ অমান্য করা। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন:- “তোমরা পাপ সীমালংঘনের কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করো না।
[
সূরা আল-মায়িদাহ আয়াত নাম্বার:- ০২]

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা যেন আমাদের সকল প্রকার ইসলাম বিরোধী কাজ থেকে রক্ষা করেন। -আমীনযদি কারো মনে সন্দেহ থাকে, তাহলে বইয়ের নাম, বইয়ের পৃষ্ঠা নাম্বার, হাদিস নাম্বার দেওয়া আছে মিলিয়ে দেখবেন

ধন্যবাদ এত ধর্য সহকারে পড়বার জন্য

 

Post a Comment

0 Comments