আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ !

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
সুপ্রিয় পাঠক , সালাম সম্পর্কে জাবতীয় প্রায় সব কিছুই এই পোস্টটিতে তুলে ধরার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। নিজের ব্যাখ্যা ব্যাতী রেখে সরাসরি হাদিস শরীফের ব্যাখ্যা থেকে সকল বিষয়ে অবগত হবো ইনশাআল্লাহ !

সালাম বিষয়ে ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত,হুজুর ( সা.) এর দরবারে এক লোক এসেআসসালামু আলাইকুমবলে বসে পড়ল। হুজুর ( সা.) তার উত্তর দিয়ে বললেন, সে দশটি নেকি পেয়েছে। তারপর আরেকজন এসেআসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহবলে বসে গেল। হুজুর ( সা.) তার উত্তর দিয়ে বললেন, সে বিশটি নেকি পেয়েছে। অতঃপর আরেকজন লোক এসেআসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহুপর্যন্ত বলে বসে গেল। রাসূল(সা.) তার উত্তর দিয়ে বললেন, সে ত্রিশ নেকি পেয়েছে।
আবু দাউদ ৫১৯৫, তিরমিজি ২৬৯০

সালামের উচ্চারণে আমরা সচরাচর যে ভুলগুলো করে থাকি তা হল- স্লামালাইকুম, সালামালাইকুম, আস্লামালাইকুম, আস্লাআলাইকুম, সেলামালাইকুম, ইস্লামালাইকুম, অয়ালাইকুম ইত্যাদি বলা। অথচ, এই শব্দগুলো বলার কারণে সালামের অর্থ ঠিক থাকেনা

আসসালামু আলাইকুম’ ‘ওয়া লাইকুমুস সালামসহীহ উচ্চারণের কাছাকাছি

অন্য ধর্মের মানুষকে সালাম দেয়া নিয়ে রাসূলুল্লাহ স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন,لا تبدءوا اليهود ولا النصارى بالسلام ‘তোমরা ইয়াহূদী খৃষ্টানদের প্রথমে সালাম দেবে না।’ (মুসলিম ২১৬৭)

তবে কোনো অমুসলিম আগে সালাম দিয়ে ফেললে উত্তরেঅয়া আলাইকুমবলবে। কেননা, রাসূলুল্লাহ বলেন, ﺇﺫﺍ ﺳﻠﻢ ﻋﻠﻴﻜﻢ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﻜﺘﺎﺏﻓﻘﻮﻟﻮﺍ ﻭﻋﻠﻴﻜﻢ ‘আহলে কিতাবগণ তোমাদের সালাম দিলে, তার উত্তরে তোমরা শুধুঅয়া আলাইকুমবলবে।’ (বুখারি ৬২৫৮ মুসলিম ২১৬৭)

সালাম (আরবি: ٱلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ ٱللَّٰهِ وَبَرَكَاتُهُ‎‎) একটি আরবি শব্দ। এর অর্থ হচ্ছে শান্তি, প্রশান্তি কল্যাণ, দোয়া, আরাম, আনন্দ, তৃপ্তি।[] সালাম একটি সম্মানজনক, অভ্যর্থনামূলক, অভিনন্দনজ্ঞাপক, শান্তিময় উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন পরিপূর্ণ ইসলামী অভিবাদন

এটি উল্লেখ্য যে, ‘আস্‌-সালামআল্লাহর সুন্দর নামসমূহের মধ্যে একটি অন্যতম নাম[] এবং জান্নাতের নাম সমূহের মধ্যে একটি জান্নাতের নাম।সালাম আমাদের জীবনে অনেক শান্তি সুখ আনে।[]

মুসলিমরা বিশ্বাস করে যে আল্লাহ সর্বপ্রথমে প্রথম মানব আদমকে

বলেন আল্লাহ আদম (আঃ)কে সৃষ্টি করে বলেন, যাও ফেরেশতাদেরদলকে সালাম দাও এবং তোমার সালামের কি উত্তর দেয় মন দিয়ে শুন। এটিই হবে তোমাসালামের শিক্ষা দেন।[]

হাদিসে আছে, আবু হুরায়রাথেকে বর্ণিত হয়েছে রাছূলুল্লাহ মুহাম্মাদ(সাঃ) আর তোমার সন্তানদের সালাম। সে অনুযায়ী আদম গিয়ে বলেন, আস্সালামু আলাইকুম(অৰ্থ- ‘আপনাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক’) ফেরেশতারা উত্তর দেন,ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি (অৰ্থঃআপনাদের উপর শান্তি এবং আল্লাহ রহমত বর্ষিত হোক’)

ফেরেশতারা রাহমাতুল্লাহ বৃদ্ধি করেন।[]

সালাম দেওয়া সুন্নত। উত্তর দেওয়া ওয়াজিব

অন্যান্য নবীদের জীবনে সালামের প্রচলন সম্পাদনা
ইব্রাহিম(আঃ) এর ক্ষেত্রে, কুরআনে পাওয়া যায়-

এবং অবশ্যই আমার ফেরেশতারা সুসংবাদ নিয়ে ইব্রাহীমের নিকট এসেছিল। তারা সালাম জানায়। তিনিওসালামদেন।[] ”
অন্যের গৃহে সালাম না দিয়ে প্রবেশ করা নিষেধ সম্পাদনা
কুরআন- আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন যে,

হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের গৃহ ব্যতীত অন্য গৃহে প্রবেশ করো না, যে পর্যন্ত আলাপ পরিচয় না কর এবং গৃহবাসীদেরকে সালাম না কর। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম। যাতে তোমরা স্মরণ রাখো। [] ”
হাদিসে অন্যের গৃহে গিয়ে তিনবার সালাম দিতে বলা হয়েছে এবং অনুমতি প্রার্থনা করতে বলা হয়েছে। অনুমতি নাদিলে চলে আসতে বলা হয়েছে।[]

সালামের বিধান সম্পাদনা
সালাম দেয়া সুন্নত। আল্লাহ্ তাআলা বলেন,

[] يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَدۡخُلُواْ بُيُوتًا غَيۡرَ بُيُوتِكُمۡ حَتَّىٰ تَسۡتَأۡنِسُواْ وَتُسَلِّمُواْ عَلَىٰٓ أَهۡلِهَاۚ ذَٰلِكُمۡ خَيۡرٞ لَّكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَذَكَّرُونَ

হে মুমিনগণ, তোমরা নিজদের গৃহ ছাড়া অন্য কারও গৃহে প্রশে করো না, যতক্ষণ না তোমরা অনুমতি নেবে এবং গৃহবাসীদেরকে সালাম দেবে [১০]

আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহুআনহুহতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লামবলেন,

«لا تدخلوا الجنة حتى تؤمنوا ولا تؤمنوا حتى تحابوا أو لا أدلكم على شيء إذا فعلتموه تحاببتم؟ أفشوا السلام بينكم» رواه مسلم.

তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা পরিপূর্ণ ঈমানদার হতে পারবে না। আর ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা পরিপূর্ণ ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি তোমরা একে অপরকে ভালবাসবে না, আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি জিনিস বাতলে দেব, যা করলে তোমরা পরস্পর পরস্পরকে ভালো বাসবে? তারপর তিনি বললেন, তোমারা বেশি বেশি করে সালামকে প্রসার কর”[১১]

কোনো জামাতকে সালাম দেয়ার ক্ষেত্রে সালাম শব্দটি মারেফা (السلام) বা নাকিরা (سلام) উভয় প্রকারে ব্যবহার করা যাবে। কারণ, হাদিসে উভয় প্রকারের ব্যবহার প্রমাণিত আছে। আল্লামা ইবনুল বান্না রহ. বলেন, সম্ভাষণের সালাম নাকিরা হবে, আর বিদায়ী সালাম মারেফা হবে

জামাতের মধ্য হতে যে কোনো একজনের সালাম দেয়া দ্বারা সুন্নত আদায় হয়ে যাবে। উত্তম হল জামাতের সবাইকে সালাম দেয়া। কারণ, হাদিসে বলা হয়েছে «أفشوا السلام بينكم» অর্থাৎ, তোমরা তোমাদের পরস্পরের মধ্যে সালামকে প্রসার কর

আর যে সব ক্ষেত্রে সালাম দেয়া মাকরূহ, সে সব ক্ষেত্রগুলোকে আল্লামা গায্যি রহ. কাব্য আকারে উল্লেখ করেন। নিম্নে তার কাব্যগুলো উল্লেখ করা হল:

سلامك مكروه على من

অর্থ: যাদের সালাম দেয়া মাকরূহ নিম্নে তাদের আলোচনা করা হল: এরা ছাড়া বাকী যাদের সাথে তোমার দেখা হবে, তাদের সালাম দেয়া সুন্নত বৈধ। সালাতরত ব্যক্তি, তিলাওয়াতকারী, যিকিরকারী, হাদিস পাঠদানকারী, খুতবাদানকারী এবং যারা খুতবা শুনায় মগ্ন [তাদের সালাম দেয়া মাকরূহ] ফিকহ নিয়ে আলোচনাকারী, বিচারক যিনি বিচার কার্যে ব্যস্ত [তাকেও সালাম দেয়া মাকরূহ] আর যারা ফিকহ নিয়ে গবেষণা করছে তাদেরও তোমরা সালাম দেয়া হতে বিরত থাক, যাতে তারা উপকৃত হয়। মুয়াজ্জিন, ইকামত দানকারি পাঠদানকারীদের সালাম দেয়া মাকরূহ। অনুরূপভাবে অপরিচিত যুবতী নারী, [যাদের সালাম দেয়াতে ফিতনার আশংকা থাকে] তাদের সালাম দেয়া কোন ক্রমেই উচিত নয়। যারা দাবা খেলায় মগ্ন তাদের তাদের মত লোকদের সালাম দেয়া মাকরূহ। আর যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে খেল-তামাশায় মগ্ন [তাদের সালাম দেয়া যাবে না] কাফের লেংটা লোককে সালাম দেবে না, পেশাব পায়খানায় লিপ্তদের সালাম দেয়া হতে বিরত থাকবে। অনুরূপভাবে খাওয়ায় ব্যস্ত [লোককে সালাম দেবে না], তবে যদি তুমি ক্ষুধার্ত হও এবং জান যে লোকটি তোমাকে ফিরিয়ে দেবে না। অনুরূপভাবে শিক্ষক যিনি লেকচার দেয়ায় ব্যস্ত। মনে রাখবে হল, শেষ ব্যক্তি বাকীদের সালাম দেয়াতে তুমি উপকার লাভ করবে

সালামের উত্তর দেয়ার বিধান:

সালামের উত্তর দেয়া ফরযে কিফায়াহ। যদি উপস্থিত লোক একজন হয়, তবে তাকেই সালামের উত্তর দিতে হবে। কারণ, আল্লাহ্ তাআলা বলেন,

﴿وَإِذَا حُيِّيتُم بِتَحِيَّةٖ فَحَيُّواْ بِأَحۡسَنَ مِنۡهَآ أَوۡ رُدُّوهَآۗ ٨٦ ﴾ [النساء: ٨٦]

আর যখন তোমাদেরকে সালাম দেয়া হবে, তখন তোমরা তার চেয়ে উত্তম সালাম দেবে। অথবা জবাবে তাই দেবে [সূরা নিসা, আয়াত: ৮৬]

আলী রাদিয়াল্লাহুআনহুহতে মারফু হাদিস বর্ণিত, তিনি বলেন,

«يجزي عن الجماعة: إذا مروا أن يسلم أحدهم ويجري عن الجلوس أن يرد أحدهم» رواه أبو داود.

যখন কোন জামাত অতিক্রম করে, তখন তাদের থেকে যে কোন একজনের সালাম যথেষ্ট হবে এবং কোন মজলিস হতে যে কোন একজন সালামের উত্তর দিলে তা সকলের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে আবু-দাউদ

সালাম দেয়ার পদ্ধতি: যে ব্যক্তি আগে সালাম দেবে, তার জন্য মোস্তাহাব হল, সে বলবে- «ٱلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ ٱللَّٰهِ وَبَرَكَاتُهُ» সালাম দেয়ার ক্ষেত্রে বহুবচন শব্দ ব্যবহার করবে। যদিও উপস্থিত ব্যক্তি একজন হয়। আর সালামের উত্তর দাতা বলে উত্তর দেবে: وَعَلَيْكُمُ ٱلسَّلَامُ وَرَحْمَةُ ٱللَّٰهِ وَبَرَكَاتُهُ، সালামের উত্তরে واو العطف উল্লেখ করবে। আর মনে রাখবে, সালাম দেয়ার সময় কেউ যদি ٱلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ এবং উত্তর দেয়ার সময় শুধু وَعَلَيْكُمُ ٱلسَّلَامُ. বলে, তাতে সালাম আদায় হয়ে যাবে। যখন কোনো একজন মুসলিমকে সালাম দেয়া হল, তারপর তার সাথে যতবার দেখা হবে, ততবার সালাম দেবে। কারণ, হাদিসে সালামকে প্রসার করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লামবলেন, «أفشوا السلام بينكم» “তোমরা সালামকে প্রসার কর

আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহুআনহুহতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লামবলেন,

«إذا لقي أحدكم أخاه فليسلم عليه، فإن حالت بينهما شجرة أو جدار أو حجر ثم لقيه فليسلم عليه» رواه أبو داود، وحديث المسيء وتقدم.

যখন তোমরা তোমাদের কোন ভাইয়ের সাথে সাক্ষাত কর, তাকে সালাম দাও। যদি তোমাদের উভয়ের মাঝে কোন গাছ কিংবা পাথর বা দেয়াল বিচ্ছিন্নতা ঘটায়, তারপর আবার দেখা হয়, তাহলে আবারও সালাম দাও

মনে রাখবে, আগে সালাম দেয়া সুন্নত। কারণ, আবু উমামাহ রাদিয়াল্লাহুআনহুহতে হাদিস বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লামবলেন, «إن أولى الناس بالله من بدأهم بالسلام»

নিশ্চয় আল্লাহর নিকট উত্তম ব্যক্তি সে যে মানুষকে আগে সালাম দেয় বর্ণনায় আবু-দাউদ শক্তিশালী সনদে

মজলিস থেকে ফিরে যাওয়ার সময়, সালাম দেয়া মোস্তাহাব। কারণ আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহুআনহুহতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লামবলেন, «إذا انتهى أحدكم إلى المجلس فليسلم فإذا أراد أن يقوم فليسلم فليست الأولى بأحق من الآخرة» “যখন তোমরা কোন মজলিসে গিয়ে পৌছবে তখন তুমি সালাম দেবে। আর যখন তুমি মজলিস শেষ করে মজলিস থেকে উঠে দাঁড়াবে, তখনও সালাম দেবে। প্রথম সালাম শেষের সালাম থেকে অধিক গুরুত্ব বহন করে না
বর্ণনায় আবু-দাউদ তিরমিযী এবং ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদিসটি হাসান

বাচ্চাদের সালাম দেয়া মোস্তাহাব। প্রমাণ:

 يفعله» متفق عليهeعن أنس أنه مر على صبيان فسلم عليهم وقال: «كان رسول الله

অর্থ: আনাস রাদিয়াল্লাহুআনহুহতে বর্ণিত, তিনি বাচ্চাদের নিকট দিয়ে অতিক্রম করেন এবং তাদের সালাম দেন এবং বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লামঅনুরূপ করতেন। বুখারি মুসলিম। আল্লাহ ভালো জানেন

সালামের আরও কিছু বিধান

ছোটরা বড়দের সালাম দেবে, কম লোক বেশি লোককে সালাম দেবে এবং আরোহী ব্যক্তি পায়ে হাটা ব্যক্তিকে সালাম দেবে। কারণ, আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহুআনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লামবলেন,

«ليسلم الصغير على الكبير، والمار على القاعد، والقليل على الكثير» متفق عليه، وفي رواية لمسلم: «والراكب على الماشي».

ছোটরা যেন বড়দের সালাম দেয়, পায়ে হাটা ব্যক্তি যেন বসা ব্যক্তিকে সালাম দেয় এবং কম সংখ্যক লোক যেন বেশি সংখ্যক লোককে সালাম দেয় বুখারি মুসলিম।
আর মুসলিমের বর্ণনায় বর্ণিত, “আরোহী ব্যক্তি পায়ে হাটা ব্যক্তিকে সালাম দেবে

যখন দুই সাক্ষাতকারী পরস্পর সালাম দেয় এবং পরস্পরের সালাম শুনতে পায়, তখন উভয়ের উপরই সালামের উত্তর দেয়া ওয়াজিব হয়ে যায়। আর যখন কোনো এক দল লোক কোনো বসা ব্যক্তি বা বসা লোকদের মজলিসে উপস্থিত হবে, তখন সে প্রথমে তাদের সালাম দেবে। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লামবলেন, «والمار على القاعد» আর যখন কোনো ব্যক্তি দেয়ালের ওপাশ থেকে সালাম দেয়, তখন তার নিকট সালাম পৌছার পর, উত্তর দেয়া ওয়াজিব

আর যখন কোনো ব্যক্তি দূর থেকে চিঠির মাধ্যমে অথবা দূতের মাধ্যমে কাউকে সালাম দেয়, তখন তার নিকট সালাম পৌছার পর সালামের উত্তর দেয়া ওয়াজিব। তবে মোস্তাহাব হল, দূতকেও সালাম দেয়া এবং কথা বলা, وعليك وعليه السلام তোমার উপর তার উপর সালাম। কারণ, হাদিসে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লামকে একজন ব্যক্তি এসে বলল,

أبي يقرؤك السلام فقال: «عليك وعلى أبيك السلام».

আমার পিতা আপনাকে সালাম দিয়েছে। কথা শোনে রাসূল সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লামবললেন, “তোমার উপর এবং তোমার পিতার উপর সালাম

ইমাম আহমদ ইবন হাম্বল রহ. কে বলা হল, অমুক আপনাকে সালাম দিয়েছে। তখন তিনি বললেন, ‘তোমার উপর তার উপর সালাম

যদি কোনো ব্যক্তি বধিরকে সালাম দেয়, তখন মুখে বলবে এবং হাতে ইশারা করবে। আর বোবা ব্যক্তির সালাম দেয়া উত্তর দেয়া উভয়টি ইশারা দ্বারা হবে। কারণ, তার ইশারা কথার স্থলাভিষিক্ত। আর নারীদের সালাম দেয়া পুরুষদের পরস্পরের সালামের মতই- কোনো পার্থক্য নাই

একজন পুরুষ অপর পুরুষের সাথে মুসাফাহা করা মুস্তাহাব, অনুরূপভাবে একজন নারী অপর নারীর সাথে মুসাফাহা করা মুস্তাহাব

প্রমাণ: আবু খাত্তাব, ক্বাতাদা রহেমাহুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন,

 قال: نعم”e“قلت لأنس: أكانت المصافحة في أصحاب رسول الله

আমি আনাস রাদিয়াল্লাহুআনহুকে জিজ্ঞাসা করলাম রাসূল সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লামএর যুগে মুসাফাহা করার প্রচলন ছিল কিনা? উত্তরে তিনি বলেন, হ্যাঁ, ছিল বর্ণনায় বুখারি

বারা ইব্ আযেব রাদিয়াল্লাহুআনহুহতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লামএরশাদ করেন,

«ما من مسلمين يلتقيان فيتصافحان إلا غفر لهما قبل أن يفترقا» رواه أبو داود.

যখন দুইজন মুসলিম একত্র হবে এবং একে অপরের সাথে মুসাফাহা করে তখন তারা উভয় বিচ্ছিন্ন হওয়ার পূর্বে আল্লাহ্ তাআলা তাদের উভয়কে ক্ষমা করে দেন বর্ণনায় আবু-দাউদ

যখন তুমি এমন কোনো একদল লোকের মজলিসে প্রবেশ করবে যেখানে ওলামাগণও উপস্থিত আছে, তখন প্রথমে তাদের সবাইকে সালাম দেবে, তারপর আলেমদের আলাদাভাবে সালাম দেবে; যাতে সাধারণ মানুষ আলেমদের মধ্যে পার্থক্য বুঝা যায়। অনুরূপভাবে যদি মজলিসে একজন আলেম থাকে তাকেও আলাদাভাবে সালাম দেবে

সালাম দেয়ার সময় মাথা ঝুঁকানো সম্পূর্ণ অবৈধ, তবে কোলাকুলি করা বৈধ। প্রমাণ:

আনাস রাদিয়াল্লাহুআনহুহতে বর্ণিত, তিনি বলেন,

«قال رجل يا رسول الله، الرجل منا يلقى أخاه أو صديقه أينحني له؟ قال: لا، قال: أفيلتزمه ويقبله؟ قال: لا، قال: فيأخذ بيده ويصافحه؟ قال: نعم»

এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্য হতে কোন লোক তার অপর ভাই অথবা বন্ধুর সাথে সাক্ষাত করলে, সে কি তার সম্মানে মাথা নিচু করবে। রাসূল সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লামনা, তারপর সে বলল, তাকে জড়িয়ে ধরবে কিনা এবং চুমু দেবে কিনা? রাসূল সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লামবললেন, না, তারপর আবার জিজ্ঞাসা করা হল, তার হাত ধরে তার সাথে মুসাফাহা করবে কিনা? বলল, হ্যাঁ বর্ণনায় তিরমিযী এবং তিনি বলেন, হাদিসটি হাসান সহীহ

আয়েশা রাদিয়াল্লাহুআনহুহতে বর্ণিত, তিনি বলেন,

 يجر ثوبه فاعتنقه وقبله»e في بيتي فأتاه فقرع الباب فقام إليه النبي e«قدم زيد بن حارثة ورسول الله

যায়েদ ইব্ হারেসা মদিনায় আগমন করল, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লামআমার ঘরে ছিল, সে আমার বাড়ীতে রাসূল সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লামএর নিকট এসে দরজায় আওয়াজ করল। রাসূল সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লামতার দিকে উঠে দাঁড়াল, তারপর তার সাথে মুআনাকা করল এবং তাকে চুমু দিল বর্ণনায় তিরমিযী এবং তিনি বলেন, হাদিসটি হাসান

আর যখন ঘরে প্রবেশ করবে, তখন সালাম দেয়া সুন্নত। আল্লাহ্ তাআলা বলেন,

﴿فَإِذَا دَخَلۡتُم بُيُوتٗا فَسَلِّمُواْ عَلَىٰٓ أَنفُسِكُمۡ تَحِيَّةٗ مِّنۡ عِندِ ٱللَّهِ مُبَٰرَكَةٗ طَيِّبَةٗۚ ٦١ ﴾ [النور: ٦١]

তবে তোমরা যখন কোন ঘরে প্রবেশ করবে তখন তোমরা নিজদের উপর সালাম করবে, আল্লাহর পক্ষ থেকে বরকতপূর্ণ পবিত্র অভিবাদনস্বরূপ [সূরা নূর, আয়াত: ৬১]

আনাস রাদিয়াল্লাহুআনহুহতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লামবলেন,

«يا بني إذا دخلت على أهلك فسلم يكن بركة عليك وعلى أهلك» رواه الترمذي، وقال حديث حسن.

হে বৎস! তুমি যখন ঘরে প্রবেশ করবে, তখন সালাম দাও। তা তোমার জন্য তোমার পরিবার পরিজনের জন্য বরকত হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে বর্ণনায় তিরমিযী এবং তিনি বলেন, হাদিসটি হাসান

আনাস রাদিয়াল্লাহুআনহুহতে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লামবলেন,

«إذا خرج الرجل من بيته فقال بسم الله توكلت على الله لا حول ولا قوة إلا بالله يقال له هديت وكفيت ووقيت وتنحى عنه الشيطان» رواه الترمذي، و حسنه والنسائي وابن حبان في صحيحه.

যখন কোন ব্যক্তি ঘর থেকে বের হওয়ার সময় দো পাঠ করে, بسم الله توكلت على الله لا حول ولا قوة إلا بالله তাকে বলা হয়, তোমাকে হেদায়েত দেয়া হয়েছে, তোমাকে বাঁচানো হয়েছে। আর শয়তান তার থেকে দূর হয়ে যায়। বর্ণনায় তিরমিযী, তিনি হাদিসটিকে হাসান আখ্যায়িত করেন, নাসায়ী ইবনে হিব্বান; তার সহীহতে

সূনানে আবু দাউদে আবু মালেক আল-আশআরী রাদিয়াল্লাহুআনহুহতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লামবলেন,

«إذا ولج الرجل بيته فليقل: اللهم إني أسألك خير المولج وخير المخرج بسم الله ولجنا وبسم الله خرجنا وعلى الله ربنا توكلنا ثم ليسلم على أهله» حديث حسن.

যখন কোন ব্যক্তি ঘরে প্রবেশ করে, সে যেন দো পাঠ করে

«اللهم إني أسألك خير المولج وخير المخرج بسم الله ولجنا وبسم الله خرجنا وعلى الله ربنا توكلنا»

হে আল্লাহ! তোমার নিকট উত্তম বাসস্থান চাই এবং উত্তম বের হওয়া চাই। হে আল্লাহ! আমরা আল্লাহর নামে প্রবেশ করলাম এবং আল্লাহর নামে বের হলাম। হে আমাদের রব আমরা আল্লাহর উপর ভরসা করলাম তারপর সে তার পরিবার-পরিজনকে সালাম দেবে